যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ ত্রিশ (৩০) বছর সশ্রম কারাদণ্ড
মুখবন্ধ
ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় সাজার মাত্রা (Quantum of punishment) নির্ধারণ অধিকতর দূরহ কাজ। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সাজার মাত্রা কী হবে এই বিষয়ে আমাদের দেশে সুনির্দিষ্ট কোন আইন বা গাইডলাইন নেই। ফলশ্রুতিতে, বিচারকগণ ব্যক্তিগত বিবেচনার ভিত্তিতে সাজার তারতম্য করে থাকেন। এই রায়ের মাধ্যমে আমাদের সর্বোচ্চ আদালত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে Sentencing Guidelines প্রবর্তনের তাগিদ দিয়েছেন।
মৃত্যুদণ্ড নাকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব বিচারকবৃন্দের। ঘটনার পরম্পরা, অপরাধের মাত্রা ও ব্যক্তির অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা সাপেক্ষে যথাযথ সাজা আরোপ করা হয়। আমাদের দণ্ডবিধিতে আমৃত্যু কারাবাস বলতে কোন বিশেষ ধরণের সাজার কথা উল্লেখ নেই। তথাপি, আপীলের রায়ে আমাদের উচ্চ আদালত আমৃত্যু কারাবাসকেই যাবজ্জীবন সাজা হিসেবে ব্যাখ্যা প্রদান করেন। অত্র রিভিউয়ের রায়ের মাধ্যমে পূর্বের এই ব্যাখ্যার পরিবর্তন করা হয় এবং যাবজ্জীবন সাজার মেয়াদ ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড উল্লেখ করা হয়।
ফলশ্রুতিতে, এই সংক্রান্তে সকল ধরণের বিভ্রান্তির অবসান ঘটল। আমি আশা করি, এই রায় বাংলাদেশের ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।